সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসমুহ (৪অধ্যায়) রাষ্ট্রবিজ্ঞান (৪র্থসেমিস্টার)
উত্তর: সংবিধানের ৫৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত নির্বাহী বা শাসন ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরামর্শে অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের, অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালদের এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করেন।
(2)রাষ্ট্রপতির আইনগত ক্ষমতার মূল দিক কী?
উত্তর: রাষ্ট্রপতির আইনগত ক্ষমতার মূল দিক হলো তাঁর সম্মতি ছাড়া পার্লামেন্টে পাস হওয়া কোনো বিল আইনে পরিণত হতে পারে না। এছাড়া তিনি পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান বা স্থগিত করতে পারেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন।
(3)‘অধ্যাদেশ জারি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পার্লামেন্টের অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধানের ১২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে বিশেষ আদেশ বা আইন জারি করেন, তাকে অধ্যাদেশ (Ordinance) বলে। পার্লামেন্টের অধিবেশন বসার ৬ সপ্তাহের মধ্যে এটি পাস করিয়ে নিতে হয়।
(4)উপ-রাষ্ট্রপতির প্রধান দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর:
পদাধিকারবলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সভার অধিবেশন পরিচালনা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে সর্বোচ্চ ৬ মাস অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
(5)প্রধানমন্ত্রীর political বা রাজনৈতিক ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী হলেন লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক চালিকাশক্তি। তিনি সাধারণ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধান মুখ হিসেবে কাজ করেন, দলীয় নীতি নির্ধারণ করেন এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সংযোগ রক্ষা করেন।
(6)প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনি মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন এবং সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।
(7)মন্ত্রিপরিষদের যৌথ দায়বদ্ধতা কী?
উত্তর: সংবিধানের ৭৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়ী থাকে। এর অর্থ হলো, সরকারের কোনো নীতি বা বিলের পক্ষে সমস্ত মন্ত্রী সমানভাবে দায়ী এবং লোকসভায় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সমগ্র মন্ত্রিপরিষদকে পদত্যাগ করতে হয় ।
(8)মন্ত্রিপরিষদ ও মন্ত্রীসভা (ক্যাবিনেট)-র মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মন্ত্রিপরিষদ (Council of Ministers) একটি বড় সংস্থা, যা ক্যাবিনেট মন্ত্রী, রাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত (সংখ্যা ৬০-৭০ জন)। অন্যদিকে, মন্ত্রীসভা বা ক্যাবিনেট (Cabinet) হলো মন্ত্রিপরিষদের অভ্যন্তরে থাকা শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী নীতি-নির্ধারক গোষ্ঠী (সংখ্যা ১৫-২০ জন)।
(9)রাজ্যপালের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত শাসনবিভাগীয় ক্ষমতা রাজ্যপালের নামে পরিচালিত হয়। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। এছাড়া তিনি অ্যাডভোকেট জেনারেল ও রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ করেন।
(10)রাজ্যপালের ‘বিশেষ বিবেচনার’ ক্ষমতা কী?
উত্তর: সংবিধানের ১৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যপাল মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ ছাড়াই নিজের স্বাধীন বিচারবুদ্ধি বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন— রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করা কিংবা বিধানসভায় পাস হওয়া কোনো বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখা।
(১১) মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভূমিকা সংক্ষেপে লিখো।
উত্তর: মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্য বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি রাজ্যে নিজের দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের সাথে রাজনৈতিক জনসংযোগ রক্ষা করেন।
Comments
Post a Comment